#মীনা_কথন লিখতে যে পরিমান অতীতে ফিরে যেতে হয়, সেটা অনেক কষ্টের আর Time Consuming। চেয়েছিলাম ধারাবাহিক ভাবে লিখতে। তাই হঠাৎ হঠাৎ পুরানো ইমেল ঘেটে এমন কিছু উপাদান পাই, তখন আবার নতুন করে লিখতে হয়। তাই চতুর্থ পর্ব লিখতে সময় একটু বেশিই লেগে গেল। রিসোর্স খুজে পেতে সময় লেগেছে।
যাইহোক, আমার লেখা মুলত আমাদের ToonBangla স্টুডিওতে নির্মিত ৪ টি মীনা ফিল্ম নিয়ে যেটা আগেই বলেছি। যেহেতু বাংলাদেশে দ্বিতীয়বার যখন আবার মীনার নির্মান শুরু হয়েছিল ৬টি ফিল্ম এক সাথে, তাই ToonBangla তে নির্মিত প্রথম মীনা, 'Meena in Fantasy land' বা "রুপকথার দেশে মীনা" নিয়ে লিখতে বসে আনুষঙ্গিক আরো অনেক কথা চলে আসে। আমাদের সাথের অন্যান্য স্টুডিওর সাথেও আমাদের কিছু বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান হত যেন সবাই এক জায়গায় থাকতে পারি। তাই লেখায় মাঝে মাঝে অন্য স্টুডিওর কিছু প্রাসঙ্গিক কথাও চলে আসবে।
আগেই একবার লিখেছিলাম যে স্যার রাম মোহন এই নতুন ৬টি মীনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন। UNICEF সকল স্টুডিওকে কাজ ভাগ করার আগেই স্যার রামমোহন কে দিয়ে একটি workshop করিয়েছিল মীনার ফিল্মমেকিং সম্পর্কে। স্যার বাংলাদেশে এসে workshop করিয়েছিলেন। যেহেতু তখন ToonBangla enlisted ছিলনা আর আমাদের অনেক শিল্পী মীনার প্রথম পর্যায়ের নির্মানে যুক্ত ছিল, তাই তারা দাওয়াত পেল। আমি বললাম, অবস্যই যেতে হবে, তবে Toonbangla র ব্যানারে। যাইহোক, শিল্পীরা workshop শেষ করে আসল। আমরা যারা যায়নি, তারা অধীর আগ্রহে স্যারের গল্প শুনছি।
এর মাঝে একদিন হঠাৎ করে একজন ভদ্রমহিলা দুপুরে চলে আসলেন আমাদের অফিসে। আমি greet করে জানতে চাইলাম উনি কোথা থেকে এলেন। বললেন UNICEF থেকে। উনি আমাদের সম্পর্কে জানতে চান, Studio এর কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে চান। উনি সম্ভবত সেই Workshop এর আগে এসেছিলেন। খুবি অবাক হয়েছিলাম UNICEF কর্মকর্তাকে কোন নোটিস না দিয়ে এইভবে হঠাৎ করে Studio Visit করতে। তখন থেকেই নাকি তারা দেশে কোন কোন স্টুডিও এখন কাজ করছে সেটা সরেজমিনে দেখার জন্যে এইভাবে ভিজিট করত।
যাইহোক, workshop, studio official visit সব শেষে Biding এর জন্যে ToonBangla আমন্ত্রন পেল। মজার ব্যাপার হল, টুনবাংলার owner (বর্তমান Tomorrow ফিল্মের প্রডিওসার) ঠিক রাজি ছিলেন না। উনি মীনাতে ইনভেস্ট করার চাইতে নিজের কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্টে খুব জোর দিচ্ছিলেন। উনি বলতেন, আমরা যতই মীনা করি সেটা আমার কন্টেন্ট নয়। আমি নিজের কন্টেন্ট তৈরির পক্ষে বেশি। কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু আমরা অনেক হতাস হয়ে পরেছিলাম। মীনা হল আমাদের ভালবাসা। আবার দেশে এর নির্মান শুরু হবে। দেশের সবচেয়ে বড় স্টুডিও হিসেবে আমরা কাজ করবনা!!!!!!...যাইহোক, পরে জাহিন ভাইকে বুঝালাম, আমরা যদি কাজ না করি, তাহলে স্টুডিওর অনেকেই হয়ত অন্য স্টুডিওর মীনার কমিশন কাজ করবে। সেটা কি ঠিক হবে? এরপর উনি রাজি হলেন। তবে শর্ত আছে। আমরা শুধু ২টি ফিল্মের জন্যে Bid করব। যাইহোক, আমরা শুধু ২টির জন্যে বিড করলাম। প্রায় মাসখানেক পরে অফিসিয়ালি খবর এল...... আমরা দুইটি মীনার কাজ পেয়েছি। Studio তে যেন ঈদের আনন্দ বয়ে গেল। সে কি উত্তেজনা সবার মাঝে!!!!!!
আমরা script কয়েকদিন পর হাতে পেলাম। UNICEF এর গল্প তৈরি করার একটা মেকানিজ্যম আছে। তারা এক বিশাল workshop এর arrange করে। সেখানে একসাথে ৪/৫ দিন থেকে নানা গ্রুপ মিলে গল্প তৈরি করতে থাকে নির্দিষ্ট কোন বিষয়কে সামনে রেখে। স্যার রাম মোহন যখন মীনা workshop করাচ্ছিলেন, একই সময়ে script এর workshop ও চলেছিল। এইভাবে ৫ দিন পরে যে গল্পগুলো UNICEF পছন্দ করে, সেই সব পাঠানো হয়েছিল মীনার script writer and consultant দীপা বালসাভারের কাছে। মুলত, উনার কাজই ছিল গল্পগুলোকে চূড়ান্ত রূপ দেয়া। উনি বাংলাদেশে থেকে কয়েকটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করে বাকিটা শেষ করেছিলেন মুম্বাইতে বসে। আমাদের 'রূপকথার দেশের' মীনার চুরান্ত কপি আমরা হাতে পাই বেশ পরে।
এরপর স্টুডিও তে চলতে থাকে ফিল্মমেকিং এর প্রস্তুতি। সে বিষয়ে লেখা পরবর্তি পর্বে।
নিচে সেই ওয়ার্কশপের কিছু আর টুনবাংলার অল্প কিছু ছবি দেয়া হল। অনেক অনেক ছবি ছিল। কিন্তু এখন খোজ পাওয়া যাচ্ছেনা। পেলে এই লেখাতেই পরে যুক্ত করে দিব। ছবিগুলো পেয়েছি Shahnawaz Shudhiএর কাছ থেকে।







No comments:
Post a Comment